রামপাল দুর্ঘটনা : ৯ স্বজনকে পাশাপাশি দাফন

জানাজা শুরুর আগে নিহত নয়জনের খাটিয়া পাশাপাশি রাখা হয়। জানাজা শেষে তাদেরকে মোংলা সরকারি কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Bagerhat
নয়জনের জানাজা
নয়জনের জানাজা |সংগৃহীত

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহত আবদুর রাজ্জাক সরদারের পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বজনসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: রুহুল আমিন এ জানাজায় ইমামতি করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক (রাহাদ), বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী প্রমুখ।

জানাজা শুরুর আগে নিহত নয়জনের খাটিয়া পাশাপাশি রাখা হয়। জানাজা শেষে তাদেরকে মোংলা সরকারি কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

অপরদিকে, একই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কনে, তার বোন ও দাদির জানাজা খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে আজ সকালে এবং জুমার নামাজের পর কনের নানির জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বেলা ১১টায় বাগেরহাট রামপালে মাইক্রোবাসচালকের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সাথে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (ছাব্বির)। কনের বাড়িতে বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নববধূসহ কয়রা থেকে বাগেরহাটের মোংলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বরযাত্রীরা। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন ওঠেন একটি মাইক্রোবাসে। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে চারটিই শিশু। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরের কম। নিহত হয়েছেন তাদের মায়েরাও। আহত একজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের নিহতরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, চার নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ।