মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় তুলা চাষের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা জোনের আয়োজনে উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে (সাভার বাজার ইউনিট) এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ গাজী মো: ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছা: তানিয়া তাবাসসুম, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, প্রাক্তন উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: মোজাফফর হোসেন, সাটুরিয়া উপজেলা সাবেক বিএনপির সভাপতি আব্দুল কদ্দুস খান মজলিস মাখন এবং বরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মোহাম্মদ আব্দুল হাই ও স্থানীয় কৃষকরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে সাটুরিয়া উপজেলায় মোট ১০৮ হেক্টর জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার তুলা চাষের পরিধি বাড়াতে এবার মোট ২৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিকে এই প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
ইউনিট অফিসার পুলক গোস্বামী বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর উপজেলায় তুলা চাষির সংখ্যা এবং আবাদি জমির পরিমাণ বাড়বে এবং অনেক চাষি নিজ খরচে তুলা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রতি জন চাষিকে তুলা চাষের জন্য বিনামূল্যে জনপ্রতি ৬০০ গ্রাম উন্নত জাতের তুলা বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি সার এবং বোরনসহ প্রয়োজনীয় বালাইনাশক বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘দেশের বস্ত্র শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলার আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এই প্রণোদনা প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে আনবে এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে। সেই সাথে তুলাসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদন করে সাটুরিয়া উপজেলা থেকে তামাক চাষ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’
এ সময় সুবিধাভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



