প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, স্বৈরাচার ঠেকাতে, পরিবর্তনের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে গণভোটের প্রচারণায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়, তা হলো তিনি একাধারে সংসদ নেতা হয়ে যান, মন্ত্রিসভার নেতা হন, সরকারপ্রধান হন, রাষ্ট্রপতির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, এমনকি বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব খাটান। ফলে বিচার বিভাগও তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করা যায় না, কোনো অর্থবিল পাস করা যায় না, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এছাড়াও তার আদেশের বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে না, নির্বাচন কমিশন কাজ করে না, দুদকও কাজ করতে পারে না। যেহেতু আমাদের দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার, এজন্য আমরা একটি জাতীয় মুক্তির পথ বের করেছি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরো বলেন, এই মুক্তির পথের মধ্যে যা রয়েছে তা হলো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া, সংসদকে স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি পথ তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন কমিশন ইত্যাদি যে কমিশনগুলো আছে, সেগুলোতে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় দুটি সমস্যা হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারে না, ফলে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ইচ্ছাকেই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমাদের প্রশাসন এত বেশি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন যে, আমরা যদি বিচার বিভাগ ও সংসদকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পিএস যেকোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিবের থেকেও বড় হয়ে যায়। এই কুফলগুলো আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। বাংলাদেশকে এই কুফলগুলো থেকে মুক্ত করতে হলে সংস্কারের পক্ষে আমাদের 'হ্যাঁ' বলতে হবে। আমরা যে ক্ষমতার কেন্দ্রভূতকরণ দেখেছি, তার ফলাফল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যেই হন, তিনিই স্বৈরাচার হয়ে যান। এই ৫৪ বছরে আমরা একাধিক স্বৈরাচার দেখেছি।ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের এগিয়ে এসে পরিবর্তনের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে।
হেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে গণভোট প্রচারণা মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়সহ সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটাররা।



