মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাদকের চালান নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রকাশ্যে ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হলেও জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে মাত্র ১০ কেজি। বাকি ১৪ কেজি গাঁজা বিক্রির টাকা তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্সের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবগত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সিংগাইর সার্কেলের এএসপিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফাহিম আসজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্ত চলছে, সাক্ষীর জন্য ডাকা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখি।’
জানা গেছে, গত ২২ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে বাস্তা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের ব্রিজের ওপর থেকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাছিনা আক্তার, এএসআই মো: আব্দুল জলিল ও মো: ফারুক হোসেন ২৪ কেজি গাঁজাসহ মতি মোল্লা (৩৪) নামের একজনকে আটক করেন। আটক মতি মোল্লা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের বাদশাহ মোল্লার ছেলে।
এ সময় তার কাছ থেকে পাওয়া ২৪ কেজি গাঁজার মধ্যে ১০ কেজি জব্দ তালিকায় দেখিয়ে বাকি ১৪ কেজি গাঁজা ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তা মিলে স্থানীয় মাদক কারবারি পরিবারের কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। পরে আলামত হিসেবে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে পরদিন ২৩ ডিসেম্বর এসআই হাসিনা আক্তার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, মাদক বিক্রির টাকা ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করে সত্যতা পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাছিনা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সে দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের মধ্যে পাঁচ নাম্বারে। উনারাই তো বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে।’
এএসআই আব্দুল জলিল বলেন, ‘শুনেছি সার্কেল স্যারের কাছে তদন্ত আসছে। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি অসুস্থ, বাসায় আসছি। আপনার সাথে পরে কথা বলব।’
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি তদন্ত চলছে। যারা এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তারাই এর জবাব দেবেন।’



