কুমিল্লা-৪ আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর হলফনামায় কী রয়েছে

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো: আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা।

Location :

Cumilla
কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও হাসনাত আবদুল্লাহর হলফনামায় কী রয়েছে
কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও হাসনাত আবদুল্লাহর হলফনামায় কী রয়েছে |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো: আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। তার নগদ আছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে কোনো মামলা নেই এবং স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই।

একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর চেয়ে সম্পদে এগিয়ে আছেন তার স্ত্রী। এ প্রার্থীর নামে বিগত সময়ে মামলা হয়েছে প্রায় দুই ডজন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়া হলফনামা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হলফনামা অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী হাসনাত আবদুল্লাহর জন্ম ১৯৯৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে তার সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯ টাকা। তবে ব্যাংকে তার কোনো ঋণ নেই। এ বছর তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তার নামে কৃষি বা অকৃষি জমি, প্লট-ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা গাড়ি নেই। তবে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য গহনা, আসবাব এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৩ লাখ টাকা। পেশায় গৃহিণী তার স্ত্রী সাবরিনা জাহান নুসরাতের নামে কোনো সম্পদ বা অর্থ দেখানো হয়নি।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার এমপি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ২৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং বাকি মামলাগুলো স্থগিত ও প্রত্যাহার হয়েছে।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, পেশায় ব্যবসায়ী এ প্রার্থী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তার আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা। তার স্ত্রী ও সন্তানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রার্থীর শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪১ টাকার। একটি ফার্মের পরিচালক হিসেবে তিনি বছরে ভাতা পান ১২ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে প্রার্থীর নামে নগদ আছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬০ টাকা এবং তার স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সীর নামে দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৩ টাকা।

এছাড়া ব্যাংকে স্থায়ী আমানত, বন্ড, যানবাহন, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাব ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ সকল অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রার্থীর নামে দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে প্রার্থীর নামে রয়েছে পৌনে ২ একর কৃষিজমি। তার স্ত্রীর নামে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

চলতি অর্থবছরে আয়কর বিবরণীতে প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার।