পানি বাহিত রোগের ঝুঁকি

চিতলমারীতে বিশুদ্ধ পানির সংকটে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী

উপজেলায় ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি আলিয়া মাদরাসা ও চারটি কলেজ রয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী ও ৫৫৪ শিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাত হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী ও প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে আরো কমপক্ষে চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

Location :

Chitalmari
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছে। স্কুলের অভ্যন্তরে থাকা টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রারিক্ত আয়রণ ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পান করতে পারছে না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একমাত্র পানির উৎস টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় চৈত্রের তাপাদহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে ছোট বোতলে ভরে পানি আনলেও প্রচণ্ড গরমে তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি আলিয়া মাদরাসা ও চারটি কলেজ রয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ হাজার, ৩১০ জন শিক্ষার্থী ও ৫৫৪ শিক্ষক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাত হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী ও প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে আরো কমপক্ষে চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যার বেশীর ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চৈত্রের তাপাদহে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউবওয়েল নষ্ট ও অকেজো। যেগুলো সচল রয়েছে সে গুলোতে আবার মাত্রারিক্ত আয়রণ ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পানি পান করতে পারছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ জলাধার পড়ে রয়েছে।

সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিরা সুলতান ছোঁয়া, আরাধ্যা হুই, মেঘনা ও ও পরি জানায়, তাদের স্কুলে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাড়ি থেকে বোতলে ভরে আনতে হয়। অনেক সময় পানি ফুরিয়ে যায়। আবার পানি গরম হওয়াতে সে গুলো পান করা যায় না।

ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামালেন্দু গোলদার, সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই ও শ্যামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফায়েত হোসেন জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। স্কুলের আশেপাশের বসতবাড়িগুলোর টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রারিক্ত আয়রণ ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পান করতে পারে না।

চিতলমারীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহিতুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ে কোনো টিউবওয়েল নেই। বাধ্য হয়ে পাশের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে ড্রামে ভর্তি করে রাখা হয়। বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী সেই পানি পান করতে চায় না।

বড়বাড়িয়া রহমানীয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাশুকুর রহমান জানান, তার মাদরাসায়ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস জানান, গ্রীষ্মকালে পানীয়-জলের চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উপর মহলে জানানো হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আল মুরাদ জানান, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। বিষয়টি সমাধানের জন্য ঊর্ধত্বন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

চিতলমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: আজমল হোসেন জানান, এ উপজেলার বেশীর ভাগ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। আর অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে মাত্রারিক্ত আয়রণ ও লবণ থাকায় তা পানের অযোগ্য। রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জলাধার গুলো শূণ্য।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ভূক্তভোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানালে আমি সংকট নিরসনের জন্য কাজ করব।’