চুয়াডাঙ্গার দর্শনার মেয়ে এলিজা অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি মেয়র

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের মেয়ে এলিজা আজাদ রহমান টুম্পা এখন অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার মেয়ে এলিজা অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি মেয়র
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার মেয়ে এলিজা অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি মেয়র |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের মেয়ে এলিজা আজাদ রহমান টুম্পা এখন অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে।

সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই নারী। তার এই অর্জনে জন্মস্থান দর্শনা ও চুয়াডাঙ্গায় বইছে আনন্দের হাওয়া।

হাজার হাজার মাইল দূরের অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বের আসনে বসেও নিজের শিকড়ের পরিচয় বহন করছেন এলিজা। তার বাবা আজাদুল ইসলাম আজাদ। দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের সাথে তাদের পরিবারের রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এলিজার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ক্যামডেন কাউন্সিলের সভায় কাউন্সিলরদের ভোটে এলিজা রহমান ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারীর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

এলিজার রাজনৈতিক পথচলাও খুব দীর্ঘ নয়। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাত্র দুই বছরের মধ্যে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে আসা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার পরিচায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন এলিজা।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষী ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও তার সম্পৃক্ততা ছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়।

এলিজার বাবা আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে এলিজা আজাদ টুম্পা অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছে। প্রায় দুই বছর আগে সে তাদের বসবাসের এলাকার ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এবার অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির মনোনয়নে একই কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। মেয়ের এই অর্জন আমার জন্য, আমাদের পরিবারের জন্য এবং অবশ্যই বাঙালির জন্য গৌরবের। নতুন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যেন সে সুষ্ঠু ও সফলভাবে পালন করতে পারে, এ জন্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহর সাহায্য ও সবার দোয়া যেন তার পথচলার পাথেয় হয়।’

দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু বলেন, ‘দর্শনার একটি গ্রামের মেয়ে আজ অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এলিজার এই সাফল্য প্রমাণ করে, মেধা, যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের গুণ থাকলে ভৌগোলিক সীমারেখা কোনো বাধা হতে পারে না। আমরা আশা করি, নতুন দায়িত্বে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন এবং তার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দর্শনা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন।’

শ্যামপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলিজার সাফল্যের খবর তাদের জন্য আনন্দের। নিজেদের এলাকার একজন মেয়ে বিদেশের স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে উঠে আসায় তারা গর্বিত। তাদের প্রত্যাশা, এলিজা নতুন দায়িত্বে সাফল্যের সাথে কাজ করে জন্মস্থান ও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবেন।

এলাকার সচেতন মহলের মতে, প্রবাসে বাংলাদেশী নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে সীমান্ত শহর দর্শনার মতো একটি জনপদের মেয়ের অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে আসীন হওয়া এলাকার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলিজা রহমানকে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে ডেপুটি মেয়র হওয়া প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হয়েছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মাসুদ খলিল। ফলে এলিজার এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

দর্শনার শ্যামপুর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেন—এলিজা রহমানের এই পথচলা কেবল একটি পদ অর্জনের গল্প নয়; এটি নিজের শিকড় ও পরিচয়কে ধারণ করে প্রবাসের মাটিতে নেতৃত্বের জায়গা করে নেয়া এক বাংলাদেশী নারীর সাফল্যের গল্প। তার অর্জনে গর্বিত দর্শনা, গর্বিত চুয়াডাঙ্গার মানুষ।