মেঘ দেখলেই ধান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় কেঁপে ওঠে কৃষকের বুক

সম্প্রতি বাঁধ নির্মাণে কাজ পরিদর্শন গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি দায়িত্বশীলদের বাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Sunamganj
হাওরের ধান
হাওরের ধান |নয়া দিগন্ত

মেঘমুক্ত নীল আকাশে যখন মেঘ জমে তখন কৃষকের চোখে কষ্টে ফলানো বোরো ধান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বুক কেঁপে ওঠে।

অন্ধকার চাপিয়ে গর্জে উঠে আকাশ বজ্রপাতে, শুরু হয় বৃষ্টি, ঝড় আর শিলা বৃষ্টি, সে কারনে ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত হবার পাশাপাশি দুর্বল ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির আশঙ্কায় অস্তিত্ব রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কৃষকরা। বাঁধ নির্মাণ অনিয়ম ও ধীরগতির কারণে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ ও জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষক ও সচেতন মহল।

সম্প্রতি বাঁধ নির্মাণে কাজ পরিদর্শন গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি দায়িত্বশীলদের বাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট বড় ২৩টি হাওরে এ বছর মোট ৮৮টি পিআইসিতে সরকারের বরাদ্দ প্রায় ১৭ কোটি টাকা। যা গত বছর ছিল ১৩ কোটি টাকা। অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়ায় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার মাটিয়ান, শনিসহ ২৩টি ছোট বড় হাওরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সবচেয়ে বেশি। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশী ধান উৎপাদন হবে। এখন ধান বের হচ্ছে আর যারা আগে চাষ করেছে তাদের ধান পাকতেও শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কষ্টে ফলানো এক ফসলী বোরো ধানের উপর নির্ভর তাহিরপুরের হাজার হাজার কৃষক। সে লক্ষ্যে তারা বীজতলা তৈরী, চারা উৎপাদন, রোপন করার পর মনে স্বস্তি আসলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। বিস্তৃত হাওর জুড়ে কৃষকের শ্রমে ঘামে ফলানো বোরো ধানের শীষ বের হয়েছে আর দোল খাচ্ছে বাতাসে।

এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ায় আকাশের ক্ষনে ক্ষনে বিরূপ আচারণে কষ্ট ফলানো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে আর মেঘ দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা।

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানায়, দুর্বল বাঁধের কারনে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। নলজখালী দিয়ে টাংগুয়ার হাওর পানি প্রবেশ করায় ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখে এই উপজেলার ফসল। দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতায় সেই ফসল ডুবির ঘটনা ঘটলে না খেয়ে থাকতে হবে ছেলে মেয়েকে নিয়ে।

কৃষক জাফর মিয়া বলেন, ‘আবহাওয়া খুব বেশি ভাল না। গত তিন বছর ভাল গিয়েছিল এবার লক্ষণ ভাল ঠেকছে না। অপর দিকে বাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। বাঁধ নির্মাণে দায়িত্বে থাকা লোকজনের খামখেয়ালি আর লুটপাট করার জন্য বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিময় করেছে দায়িত্বশীলরা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ।’

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘শুরু থেকে তারা কাজের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় হাওরে কাজ শুরু করে। বাঁধের কারণে হাওর পাড়ের কৃষকরা কষ্টে ফলানো বোরো ফসল নিয়ে মহা বিপদে রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভাল ফলন হবে। কৃষকদের শুরু থেকেই সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে ‘

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘আশা করছি ফসল রক্ষা বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না আর কৃষকরা তাদের ফসল ভালো ভাবেই হাওর থেকে কেটে গোলায় তুলতে পারবে। বাঁধে নজরদারি বাড়ানোর হয়েছে।’