উজিরপুরে শীত উপেক্ষা করে আবাদে ব্যস্ত বোরো চাষিরা

চলতি মৌসুমে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৬২ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
বোরো চাষে কৃষকের ব্যস্ততা
বোরো চাষে কৃষকের ব্যস্ততা |নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণ। মাঠজুড়ে চলছে যেন নীরব এক প্রতিযোগিতা। কে আগে জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ শেষ করতে পারেন! হালচাষ বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন জমিতে পানি দেয়া ও ধান রোপণের কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৬২ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীতের কারণে দিনমজুর শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়ায় মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছর যেখানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। তারপরও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান শোলক ইউনিয়নের দত্তসার গ্রামের কৃষক মো: মিজান বিশ্বাস ও ধামুরা গ্রামের কৃষক হালিম সরদার। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে অনেক কৃষক পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু সদস্যদের নিয়েই জমিতে নেমে পড়েছেন। বিলাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কে আগে ধান রোপণ শেষ করবেন। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ধান রোপণের তাড়নায় জমি হালচাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাহিদাও বেড়েছে। সুযোগ বুঝে ট্রাক্টর মালিক ও চালকরাও চাষের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর যেখানে প্রতি ২০ শতাংশ জমি হালচাষে খরচ পড়ত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। বাড়তি খরচ দিয়েও ট্রাক্টর পেতে কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন।

এদিকে অনেক এলাকায় জমি সমতল না হওয়ায় উঁচু জমিতে দেখা দিয়েছে পানির সঙ্কট। ফলে অনেক কৃষক অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচযন্ত্র বসিয়ে নিজের জমিতে নিজ উদ্যোগে পানি সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে বোরো আবাদকে ঘিরে চরম ব্যস্ততা। কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন পরিশ্রমী কৃষক-কৃষানীরা।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কপিল বিশ্বাস জানান, উপজেলায় শীত শুরুর আগেই বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছিল। যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বীজতলার ক্ষতি হয়নি।

ঘন কুয়াশা বা শীতের প্রভাবে ক্ষতির কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, রোপণকৃত বোরো ধানে ক্ষতির কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।