যশোরের বিভিন্ন সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগে এক চোরাকারবারিরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বেশি মুনাফার আশায় তারা এটি করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এরই মধ্যে যশোরাঞ্চলের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে একবারে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল-অকটেন দিচ্ছে না বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। আবার কোনো কোনো পেট্রোল পাম্পে একেবারেই জ্বালানি তেন বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, পেট্রোল পাম্প মালিকরা জ্বালানি তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা মজুদ করা তেল ভারতে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, যশোর ৪৯ বিজিবি বেনাপোল স্থলবন্দরসহ জেলার শার্শা ও চৌগাছা উপজেলার সীমান্তে তেল পাচার প্রতিরোধে জনবলবৃদ্ধির পাশাপাশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকার যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে সেসব পয়েন্টে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতে যাওয়া এবং আসার ট্রাক তল্লাশি করা হচ্ছে। যাতে ভারতীয় ট্রাক চালকরা এ দেশ থেকে কোনো ডিজেল কিংবা পেট্রোল নিয়ে যেতে না পারেন।
যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধিসহ বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক পরিবহনে তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত পথে যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনক যেকোনো চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।



