ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে ঘিরে যেখানে চামড়ার হাট জমজমাট থাকার কথা, সেখানে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ হাটে দেখা গেল উল্টো চিত্র। ক্রেতাশূন্য বাজার, স্তূপ হয়ে পড়ে আছে চামড়া। এতে হতাশায় ডুবছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (৩০ মে) সাপ্তাহিক হাট বসার দিন হলেও ট্যানারি মালিক ও পাইকারদের অনুপস্থিতিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বাজারটি।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম বড় এই চামড়ার হাটে প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে হাজারো ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে। ময়মনসিংহ ছাড়াও নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে আসেন এখানে। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—চামড়া আছে, কিন্তু নেই ক্রেতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা গরুর চামড়া। অনেকেই চামড়া স্তূপ করে কাগজ দিয়ে ঢেকে রেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হালুয়াঘাট থেকে ৪৬টি চামড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী রামলাল রবি দাস বলেন, “আজ বড় বাজার, কিন্তু একজন ব্যাপারীও নাই। ১০০ থেকে ৭০০ টাকায় কাঁচা চামড়া কিনে লবণ ও শ্রমিক খরচ দিয়ে এখন বিক্রি করতে পারছি না। টানা কয়েক বছর লস দিতে দিতে এখন ব্যবসা ছাড়ার চিন্তা করছি।’
একই হতাশা ব্যক্ত করেন মৌসুমী ব্যবসায়ী সুধর রবিন দাস। তিনি বলেন, ‘মাল নিয়ে আইছি, কিনুয়া লোক নাই। চামড়া রেখে যাচ্ছি, দেখি পরের বাজারে কী হয়।’
অভিজ্ঞ পাইকার মো: আবদুল কাদির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার দাম ঠিক করে দিলেও বাস্তবে সেই দাম পাওয়া যায় না। ৩৫ বছরের ব্যবসায় জীবনে এমন সংকট খুব কম দেখেছি। ট্যানারি মালিকরা যদি ন্যায্য দাম না দেয়, তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।’
২০২৬ সালের জন্য সরকার লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে—ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই দামের প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের অনুপস্থিতি ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজারে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি মো: মোস্তফা কামাল জানান, ‘ট্যানারি মালিকদের বারবার আহ্বান জানানো হলেও তারা আসছেন না। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’



