সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, জীবননগরে পানিবন্দী অর্ধশত পরিবার

এই পাড়ার অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের, হয়তো সেজন্যই জনপ্রতিনিধিদের কোনো সুদৃষ্টি আমরা পাই না। আমরা দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে যাতায়াতের পথ
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে যাতায়াতের পথ |নয়া দিগন্ত

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় বুক সমান পানি, আর বৃষ্টি থেমে গেলেও মাসের পর মাস কর্দমাক্ত পথ— এ যেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের মালোপাড়ার বাসিন্দাদের চিরচেনা নিয়তি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই পাড়ার প্রায় অর্ধশত পরিবার। চকচকে ইউনিয়নের মাঝে এক অভিশপ্ত জনপদ মালোবাড়ী।

উথলী গ্রামের অন্যান্য পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট আধুনিক ও পাকা হলেও, মালোপাড়ার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। পাড়াটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলো এখনো ইটের তৈরি (এইচবিবি)। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিমগ্ন হয়ে পড়ে। পানি নেমে যাওয়ার পরও রাস্তাঘাট এতটাই পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত থাকে যে, যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের উপায় থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের মালোপাড়ার মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। রাস্তাঘাট তো ডুবেই, এমনকি অনেকের ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে যায়। তখন ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়ে। এই পাড়ার অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের, হয়তো সেজন্যই জনপ্রতিনিধিদের কোনো সুদৃষ্টি আমরা পাই না। আমরা দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। এই অবস্থা থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ পেতে রাস্তাটি উঁচু করে পাকাকরণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

মালোপাড়ার অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের বাসিন্দারা।