সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মুনতাহা (৭) নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৭ জন। ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে আরো ১৫ জনের। নতুন মৃত শিশুকে নিয়ে সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৯ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ২২০, সুনামগঞ্জে ৩২৭, হবিগঞ্জে ৬২ এবং মৌলভীবাজারে ৪০ জন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দু’জন রুবেলা রোগী রয়েছেন। এর আগের দিন পর্যন্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৩৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে নতুন ভর্তি হওয়া ৭৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৩০ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন করে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছিল ৮৩ জন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম নিয়ে ২৬৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৫, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৯, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে মৃত ১১১ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৪৮, সিলেটে ৩৯, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং হবিগঞ্জে ১১ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জে একজন, সিলেটে চারজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা শিশুদের সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



