প্রাথমিক শিক্ষায় সিলেবাস বাণিজ্য : মতলবে অভিভাবকদের উদ্বেগ

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, সিলেবাসের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা সম্পূর্ণ অনিয়ম। যেসব বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Matlab Uttar
মতলব উত্তরে ছোট কিনাচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মতলব উত্তরে ছোট কিনাচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

শিশুদের জন্য সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক। সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক ঘোষণা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণের মতো রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানের নিয়ম থাকলেও চাঁদপুরের মতলব উত্তরের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সিলেবাস বিক্রির নামে রীতিমতো বাণিজ্য চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামমাত্র মূল্যের সিলেবাসের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য যে সিলেবাস সরবরাহ করা হয়, তার একেকটির মুদ্রণ ব্যয় প্রায় দুই টাকা। অথচ এর সরকারি বা নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে আট টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় স্কুলগুলোতে এই সিলেবাস বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে। এরপর বিদ্যালয়গুলোতে এই সিলেবাস শিক্ষার্থীদের কাছে ১০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি, ফরাজীকান্দি, এখলাছপুর, সুলতানাবাদ, দুর্গাপুর, গজরা, ফতেপুর পূর্ব, ফতেপুর পশ্চিম, সাদুল্লাপুর, ষাটনল, দশানী, মোহনপুর, জহিরাবাদ ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌরসভার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেবাস হাতে পাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়েছে।

পৌরসভার ব্যাসদী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সিলেবাসের জন্য ২০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। নবাবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশা মনি (ছদ্মনাম) জানায়, সিলেবাসের জন্য ৪০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। বাগানবাড়ি ও সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের স্যার ও ম্যামরা সিলেবাসের কথা বলে ৩০, ৪০, ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে খাগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপন চৌধুরী জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক সিলেবাস বণ্টন করা হয়েছে, আমরা অফিসের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।

ধনারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বলেন, আমাদের স্ব-স্ব স্কুলের ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, সিলেবাসের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, সিলেবাসের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা সম্পূর্ণ অনিয়ম। যেসব বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।