সরকারি দফতর, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি সবাই ব্যস্ত মেঘা প্রকল্প নিয়ে। উন্নয়ন প্রকল্প দৃশ্যমান হচ্ছে কেবল উপজেলা সদরকেন্দ্রিক। অথচ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল-পরবর্তী রাঙামাটির কাউখালীর গ্রামীণ সড়কগুলোর যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাতে কারো নজর নেই। দুর্যোগ-পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে এসব সড়ক মেরামতের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এমন অসংখ্য সড়কের মধ্যে কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুগারমিল-আদর্শগ্রাম সড়ক একটি। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে আদর্শগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক স্থানে। মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তার জন্য আদর্শগ্রাম এলাকার অন্তত চার হাজার মানুষ বন্দী হয়ে আছে।
সুগার আদর্শগ্রাম সমাজের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার জানান, বন্যা-পরবর্তীতে গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো দফতর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, রাস্তা থাকলেও যানবাহন দূরে থাক, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব। যার দরুণ অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে।
আদর্শগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন জানান, সুগারমিল আদর্শগ্রাম সড়ক মেরামতের অভাবে চার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক এখন চাষাবাদী জমিতে রুপান্তরিত হয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
কাউখালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, ভারী বৃষ্টিতে কাউখালীর অনেক প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করা হচ্ছে। তবে গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ছোট সড়কগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মেরামত করার কথা।



