সিকৃবি প্রতিনিধি
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ‘সোনালী দল’ নামে শিক্ষকদের একটি নতুন আদর্শিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা, অ্যাকাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং গবেষণার প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে এ প্ল্যাটফর্মটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী দাবি করে এ কার্যনির্বাহী কমিটি প্রকাশ করেন।
সংগঠনটির মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘শিক্ষায় শক্তি, গবেষণায় উন্নতি এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা সংরক্ষণ।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে বর্তমানে বিদ্যমান ‘মব কালচার’, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শিক্ষকদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার প্রতিবাদে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
সংগঠনটি মূলত মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক অ্যাকাডেমিক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে। তারা বিশ্বাস করে, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নীতি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী শিক্ষক সমাজ গঠন করা গেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রফেসর ড. এম রাশেদ হাসনাতকে সভাপতি এবং প্রফেসর ড. মো: মাছুদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ (কৃষি অর্থনীতি ও পলিসি বিভাগ), কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: আসাদ-উদ-দৌলা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও বীজ বিজ্ঞান বিভাগ), যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: মুক্তার হোসেন (মেডিসিন বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন (কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ), প্রচার সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: সামিউল আহসান তালুকদার (কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ) এবং সদস্য প্রফেসর ড. মো: রুহুল আমিন, প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আজিজ এবং প্রফেসর ড. মো: শাহাদৎ হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভিসির সাথে নির্ধারিত সাক্ষাৎ হঠাৎ বাতিল এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের প্রতি অশোভন আচরণের প্রেক্ষাপটে তারা এই নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সোনালী দল মনে করে, সুস্থ অ্যাকাডেমিক পরিবেশের স্বার্থে শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রাখা অপরিহার্য।
পরিশেষে, সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়ভিত্তিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে এবং এই পথচলায় সবার সমর্থন কামনা করেছেন।



