দস্যু বাহিনীর কবল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরলেও আতঙ্কে মেহেদী

বন বিভাগের ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করলে দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা মেহেদীকে জিম্মি করে।

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

Location :

Koyra
মেহেদী হাসান
মেহেদী হাসান |নয়া দিগন্ত

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনীর’ সদস্যদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে তিন দিন বন ও নদীপথে ঘুরে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন মেহেদী হাসান (১৭) নামের এক যুবক। তবে বাড়ি ফিরলেও এখনো আতঙ্ক কাটেনি তার।

মেহেদী উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের মো: আব্দুল্লাহর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করলে দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা মেহেদীকে জিম্মি করে। পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হলেও নির্যাতনের ভয়ে সুযোগ বুঝে দস্যুদের নৌকা থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর এলাকাবাসী নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও বনাঞ্চলে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

বাড়ি ফিরে মেহেদী হাসান দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে গ্রামের হাসান, মনি ও সাইদসহ পাঁচজনের একটি দলের সাথে তিনি কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে যান। কিন্তু বনদস্যুদের কথিত এজেন্টদের কাছ থেকে চার হাজার টাকার ‘টোকেন’ না নেয়ায় গত ১৫ জুলাই মালশাখালী খাল এলাকা থেকে দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের মোবাইল নম্বরে ফোন করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন এখনো স্পষ্ট। এছাড়া পালিয়ে আসার সময় সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল (শুলো) পায়ে বিদ্ধ হয়ে গুরুতর ক্ষত হয়।এসব কারণে বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, দস্যু বাহিনীর আস্তানায় দক্ষিণ বেদকাশীসহ বিভিন্ন এলাকার আরো ছয়জন জেলে জিম্মি ছিলেন। তাদের পরিবারের কাছেও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিকাশে বা দস্যুদের এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা দিতে বিলম্ব হলে জিম্মিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো।

মেহেদীর ভাষ্য, এক রাতে দস্যুরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি সুযোগ বুঝে পালিয়ে গহীন সুন্দরবনে আশ্রয় নেন। টানা তিন দিন বন ও নদীপথে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে লোকালয়ের কাছাকাছি এসে আত্মীয়স্বজনদের মাইকিং ও নৌকা নিয়ে খোঁজাখুঁজি করতে দেখলেও ভয়ে তাদের কোস্টগার্ড বা দস্যু বাহিনীর সদস্য মনে করে আবার বনের গভীরে চলে যান। পরে রোববার (১৯ জুলাই ) সকালে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাতাখালী এলাকায় কয়েকজন জেলের সাথে দেখা হলে তারা তাকে উদ্ধার করে কাঁটাকাটা এলাকায় পৌঁছে দেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে তিনি বাড়ি ফেরেন।

মেহেদীর বাবা মো: আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত ১৫ জুলাই আমার ছেলেকে দুলাভাই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আফজাল জিম্মি করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে একটি মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেয়া হয়। পরে দস্যুরা জানায়, আমার ছেলে নাকি পালিয়ে গেছে। এরপর আমরা কয়েকটি নৌকা ও মাইক নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাকে পাইনি। শনিবার কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলাম, তবে লেখায় ভুল থাকায় তা করা হয়নি। পরে রোববার সকাল ১০টার দিকে জানতে পারি, আমার ছেলে জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে।’