এলাকাবাসীর মানববন্ধন

রাজশাহীর কাকনহাট স্টেশনে নেই র‍্যাম্প, ট্রেনে উঠানামার সময় ভাঙছে পা

রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের একপাশে প্ল্যাটফর্ম নেই। ট্রেনে উঠানামার জন্য নেই র‍্যাম্পও। তাই ট্রেনে উঠানামার সময় পড়ে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কারো কারো ভাঙছে পা। এ অবস্থায় স্টেশনটিতে র‍্যাম্প ‌নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহীর কাকনহাট স্টেশনে নেই র‍্যাম্প, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
রাজশাহীর কাকনহাট স্টেশনে নেই র‍্যাম্প, এলাকাবাসীর মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের একপাশে প্ল্যাটফর্ম নেই। ট্রেনে উঠানামার জন্য নেই র‍্যাম্পও। তাই ট্রেনে উঠানামার সময় পড়ে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কারো কারো ভাঙছে পা। এ অবস্থায় স্টেশনটিতে র‍্যাম্প ‌নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনের সামনেই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিসিডিবি-সিআরপির সহযোগিতায় গোদাগাড়ী উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সিসিডিবি-সিপিআরপির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকারের পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটির সভানেত্রী দুলালী বেগম, কাকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সরকার, পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য লতিফা বেগম, রিশিকুল ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আলিয়া বেগম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক, মাদরাসার শিক্ষক মইনুল ইসলাম প্রমুখ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন। কমিউটার ট্রেন ও মল্লিকা পুনর্ভবা ট্রেন প্রতিদিন চারবার এই স্টেশন অতিক্রম করে। এছাড়া দুবার করে ঢালারচর এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন, মহানন্দা এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন এই স্টেশন হয়ে যায়। কিন্তু মেইন লাইনের পাশে কোনো র‌্যাম্প বা প্ল্যাটফর্ম নেই। শুধু লুপ লাইনে প্ল্যাটফর্ম আছে। ক্রসিংয়ের জন্য ট্রেন মেইন লাইনে দাঁড়ালেই যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন ওঠানামার জন্য। উঠানামার সময় যাত্রীরা পড়ে যান। আঘাত পান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। শহরের শিক্ষকেরা ট্রেনে চড়েই এই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেন। তাদের বয়স হয়েছে। ট্রেনে উঠতে ও নামতে তাদের খুব কষ্ট হয়। তারা এখানে র‍্যাম্প চান।

তারা জানান, মাঝে মাঝেই যাত্রীরা পড়ে গিয়ে চরম আঘাতপ্রাপ্ত হন। কারো কারো পা পর্যন্ত ভেঙে যায়। বছরখানেক আগে স্টেশনের বুকিং সহকারী ফায়জানা ইয়াসমিনও পড়ে গিয়েছিলেন ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে। সেদিন তারও পা ভেঙে যায়। তারা এখানে র‍্যাম্প নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের এক মিনিট হলেও স্টপেজ দাবি করেন। এই ট্রেন ধরতে তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা রাজশাহী যেতে হয়। এতে ভোগান্তি হয়।

মানববন্ধন শেষে এসব দাবি আদায়ে কাকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তারের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। পাশাপাশি কাঁকনহাট পৌরসভার প্রশাসক শামসুল ইসলামের দফতরেও একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

কাকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তার বলেন, ‘এলাকাবাসীর এই দাবি যৌক্তিক। মেইন লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় আসলেই যাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ হয়। তাদের এই স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’