টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘরের আড়ার সাথে ফাঁসিতে ঝুলছিলেন মা কনিকা (২৫) আর মেঝেতে পড়েছিল তার চার বছর বয়সী শিশু কন্যা রাজিয়ার লাশ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কনিকা ওই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক রাজিবের স্ত্রী। শিশু কন্যা রাজিয়া তাদের একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর পূর্বে রাজিব ও কনিকার বিয়ে হওয়ার পর থেকেই রাজিব ঠিকমতো স্ত্রীর ভরণপোষণ না করায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকত। এরই মধ্যে তাদের ঘরে আসে রাজিয়া। নিয়মিত কাজ না করে রাজিবের উদাসীন চলাফেরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ আরো বেড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজিব স্ত্রীকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার শিশু কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে শ্বশুর নাজিম মিয়া রাস্তা থেকে ফিরিয়ে নেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশপাশের লোকজন বসতঘরে কনিকার ঝুলন্ত লাশ এবং ঘরের মেঝেতে শিশু কন্যার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে এবং টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) আদনান মোস্তাফিজ, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে মেয়েকে হত্যা করে পরে কনিকা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


