রাঙ্গামাটির দুর্গম ২০টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং সড়ক-নৌপথে যোগাযোগের অপ্রতুলতার কারণে নির্বাচন কমিশন এসব কেন্দ্রকে ‘হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক ধাপে তা সম্পন্ন করা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি জেলায় মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২০টি কেন্দ্র অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় স্বাভাবিক পথে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক কেন্দ্রে পায়ে হেঁটেও পৌঁছানো সম্ভব নয়, আবার কোনো কোনো কেন্দ্রে যেতে সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত। ফলে নির্বাচনি সরঞ্জাম ও কর্মীদের সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থায় পাঠানো বাস্তবসম্মত নয়।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে পৃথক পৃথকভাবে হেলিকপ্টারে করে ২০টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়।
দুর্গম এসব কেন্দ্রের মধ্যে বাঘাইছড়িতে ছয়টি, বরকলে দু’টি, জুরাছড়িতে সাতটি ও বিলাইছড়িতে পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় এসব কেন্দ্রকে বিশেষভাবে হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাঙ্গামাটির ২০টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো শুরু হয়েছে। কয়েক ধাপে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
তিনি আরো জানান, দুর্গম এলাকার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।



