নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় স্বামী পরিত্যক্ত এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করে তাকে ধর্ষকের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর এ রায় দেয়া হলো।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের একটি গ্রামে স্বামী পরিত্যক্ত এক প্রতিবন্ধী নারী প্রতিবেশী হেলালের ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি গর্ভবতী হলে প্রায় ছয় মাস পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বারহাট্টা থানায় হেলালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী মারা যান।
ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া কন্যাশিশুটি বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত হেলাল শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকার করলে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্ব প্রমাণিত হলে আদালত তাকে অভিযুক্তের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে উভয় পক্ষের শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।



