ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আট বছর আগে বজ্রপাত রোধের লক্ষ্যে রোপণ করা লক্ষাধিক তালগাছ এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খাল খনন প্রকল্পের কারণে এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে সেই শিক্ষার্থীরা— যারা একদিন পরম মমতায় এসব বীজ বুনেছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শৈলকুপার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ওসমান গনি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই ধারে এবং পাউবোর বিভিন্ন খালের পাড়ে লক্ষাধিক তালের বীজ রোপণ করে। গত আট বছরে এ চারাগুলো বেড়ে উঠে দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি শৈলকুপা উপজেলাব্যাপী খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই খনন প্রক্রিয়ায় খালের পাড়ে থাকা তালগাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ উচ্ছেদের তালিকা করা হয়েছে।
শৈলকুপার বিজুলিয়া এলাকার স্কুল শিক্ষক ফিরোজ খান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে এ গাছগুলো লাগিয়েছিল। এখন গাছগুলো বড় হয়ে পরিবেশ রক্ষা করছে। খালের খনন জরুরি ঠিকই, কিন্তু নকশায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই উপকারী গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব।’
অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে যেখানে বড় গাছ বাঁচাতে মহাসড়কের নকশা পরিবর্তনের উদাহরণ রয়েছে সেখানে বজ্রপাত রোধে কার্যকর এ গাছগুলো কেনো ধ্বংস করা হবে?
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের দাবি, যত্রতত্র গাছ কেটে উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
তালের বীজ রোপণের সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক সেই শিক্ষার্থীদের মনেও এখন প্রিয় গাছগুলো হারানোর ভয় কাজ করছে।
পাউবোর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, প্রকল্পের প্রয়োজনে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে গাছ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের সাফ কথা—যে উদ্যোগটি একসময় সারা দেশে মডেল হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে তা যেন বৃথা না যায়।



