কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন। এতে প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতু এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ আরো আগে শেষ করা উচিত ছিল। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে আর বিলম্ব করা ঠিক হবে না। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদের ওপর ২০১৯ সালে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড যৌথভাবে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে।
সেতু নির্মাণ কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার দফায় সময় ও ব্যয় বাড়ানোর পরেও সাত বছরে সেতুর কাজ শেষ হয়নি। এতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে দেশের ১৮তম স্থলবন্দর সোনাহাট থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি ও কচাকাটা থানাসহ ছয়টি ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম হ্যাপি ও সামসুল ইসলাম বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় এই এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পুরাতন সেতুতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নতুন সেতুটি দ্রুত চালু হলে সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসার উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, ‘চলতি বছরের জুনে সেতুর কাজ শেষ না হলে সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
কুড়িগ্রাম জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেতু নির্মাণের শুরুতে ডিজাইনে সমস্যা ছিল। এতে কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে যে গতিতে কাজ চলছে তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এক প্রান্তের সংযোগ সড়কে বিটুমিনের কাজ বাকি রয়েছে। অপরপ্রান্তে জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। সমস্যা মিটে গেলে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে। এতে জনদুর্ভোগ দূর হবে।’



