সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে উল্লাপাড়ায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বক্তব্যের পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় তাকে সভাস্থল ত্যাগ করতে হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিলটন প্রামানিক তার নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ শেষ করে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষ হতেই উপস্থিত সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই জনতা ‘দালাল, দালাল’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইশতেহার পাঠের শেষাংশে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানানোর কারণে জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ তোলে যে, দলটি ২৪-এর গণআন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনোভাবেই দেশে আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে দেয়া হবে না।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তাজনিত কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিলটন প্রামানিককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করতে হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিলটন প্রামানিক বলেন, ‘আমার দলীয় নেতা জিএম কাদের গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমি একজন দলীয় প্রার্থী হিসেবে সেই অবস্থান থেকেই বক্তব্য দিয়েছি এবং সেই ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছি।’



