আমেরিকায় পড়তে গিয়ে মাদারীপুরের তরুণী খুন, পাওয়া যায়নি লাশ

‘বিদেশে পড়ালেখা করতে গিয়ে এমনভাবে আমার বোন খুন হবে তা মেনে নিতে পারছি না। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই। আমেরিকার সরকার তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করে।’

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি |নয়া দিগন্ত

আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর মাদারীপুরের তরুণী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পরিবার।

অপরদিকে তার সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন মার্কিন নাগরিক নিহত লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে (২৬)।

নিহত বৃষ্টির স্বজনরা জানায়, সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। কিন্তু ডিগ্রি অর্জনের আগেই বিদায় নিলো ২৩ বছর বয়সী তরুণী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠি জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে। সেখানে লিমনের সাথে তার রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ-এর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এর আট দিন পর গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরিক্ষা শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত। এ খবরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছেন পাড়াপ্রতিবেশী।

নিহত বৃষ্টির চাচাত বোন তুলি আকন বলেন, ‘বিদেশে পড়ালেখা করতে গিয়ে এমনভাবে আমার বোন খুন হবে তা মেনে নিতে পারছি না। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই। আমেরিকার সরকার তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করে।’

নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিল। সে বেঁচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারত। আমরা এই শোক কি করে মেনে নিবো?’

এদিকে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বিদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে তেমন কিছুই করা যায় না। তবে নিহতের পরিবার চাইলে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে পুলিশ।’

জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তার বাবা একটি এনজিওতে চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর-১১-তে বসবাস করেন।