মাদারীপুরের শিবচরে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশুরহাট। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। সে সকল হাটে ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। গরু-ছাগল নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রির উদ্দেশে আসছেন হাটগুলোতে। তবে তীব্র গরমে-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার কুতুবপুর গরুর হাটে দেখা গেছে বিক্রেতারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন হাটে।
বাহাদুরপুর গরুর হাটে গরু-ছাগল নিয়ে আসা স্থানীয় মো: সোহেল মুন্সি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই কোরবানির ঈদ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, বিক্রিও হচ্ছে। এখন যারা ঢাকার বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে যাবে, তারা কিছু গরু কিনছে। আর আমরাও হাটে নিয়ে আসা গরু বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টাই করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘খামারের মধ্যে গরু এক রকম পরিবেশে অভ্যস্ত ছিল। হাটে আনা-নেয়ার ফলে গরমে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টিতেও গরুগুলোকে ভিজতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে হাটে নিয়ে আসা গরু বিক্রি করার চেষ্টা করছি আমরা।'
নুরে আলম নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘বৃষ্টি-বাদলের দিন হওয়ায় আগেভাগে চলে আসলাম হাটে। অনেকে এসেছেন গরু-ছাগল দেখতে। আবার কেউ তো দামও করছেন। তবে কেনার মতো দাম কেউ বলছেন না। ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে আমাদের কাছে।’
শিবচর উপজেলার একটি জনপ্রিয় পশুর হাট শিবচর পৌরশহরের হাট। এটি প্রতি বছরের ন্যায় এবার শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার এবং বেপারীরা কোরবানির পশু কোনো সমস্যা ছাড়াই কেনাবেচা করছেন। টাকা-পয়সা লেনদেনের ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। মধ্যস্বত্ত্বভোগী কিংবা দালালের খপ্পরে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো হাটটি নিয়ন্ত্রিত।
শিবচর পৌরশহরের হাটের ইজারাদার শাহাদাত কমিশনার দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের হাটে পাঁচ হাজার কোরবানির পশু উঠেছে। পশু ক্রেতা-বিক্রেতারা আনন্দ চিত্তে রয়েছেন। তাদের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ নেই। হাসিল সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই।
শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতিবছর বাইরে থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে যান। এ হাট ঘুরে একই চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।
এ হাটে আসা হায়দার হোসেন বলেন, ‘দাম মোটামুটি ভালোই। বাজার গতবারের তুলনায় এখন পর্যন্ত ভালো মনে হচ্ছে।’
আমির আলী নামের এক কৃষক বলেন, ‘ছোট্ট পরিসরে বাড়ির মধ্যেই আমার খামার। চারটি বড় গরু রয়েছে। হাটে এনেছি। তবে গরমে গরু অসুস্থবোধ করছে। এখন হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। গরুগুলো স্বস্তি পাচ্ছে।’



