বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফয়সাল আহমেদ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)

Location :

Barlekha
বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপ এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আরো পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা—এ নিয়ে তখন এলাকায় নানা আলোচনা হয়। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা: রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সাথে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তাঁকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেয়ার জন্য মুন্নিকে চাপ দিতেন। একপর্যায়ে তার বাবা জামিনদার হয়ে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মুন্নির নামে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারো চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য মুন্নিকে চাপ দেয়া হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠান মুন্নি। তার মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেয়া হতো। পরে ওই দিন দুপুরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার পাশাপাশি আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন।

এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মা লিখিত অভিযোগ দেন।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’