অতিবৃষ্টি ও শ্রমিক সঙ্কটে বিপাকে চৌগাছার ধান চাষীরা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক সঙ্কটও বেড়েছে। অনেক কৃষক কষ্ট করে নুয়ে পড়া ধান কেটে মাড়াই করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। বৃষ্টিতে ভিজে ধানের রঙ নষ্ট হয়েছে, এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ধানের দাম কম বলছেন।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Chaugachha
ধান কেটে মাঠে রাখছেন কৃষকরা, (ডানে) রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কেটে রাখা ধান
ধান কেটে মাঠে রাখছেন কৃষকরা, (ডানে) রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কেটে রাখা ধান |নয়া দিগন্ত

যশোরের চৌগাছায় ধান চাষীরা অতিবৃষ্টি ও শ্রমিক সঙ্কটে মহাবিপাকে পড়েছেন। চলতি বোরো মৌসুমে পাকা ধান কাটতে না পেরে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছেন চাষীরা।

সম্প্রতি কালবৈশাখী ও বৈরী আবহাওয়ায় গড়ে প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় এবং শ্রমিক সঙ্কটের কারণে চাষীরা তাদের স্বপ্নের ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে মাঠে কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। তাই উৎপাদন ব্যয় তুলতে না পারার আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য কর্মকর্তা বাদশা ফয়সাল জানান, এ বছর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে মোট ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন। বেশিরভাগ জমির ধান ইতোমধ্যে পেকে গেলেও গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে কৃষকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

শুক্রবার (৮ মে) সরেজমিনে উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী,পাশাপোল, ধুলিয়ানী, পাতিবিলা, চৌগাছা, জগদিশপুর, হাকিমপুর, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ো হাওয়ায় অনেক ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানির উপর ভাসছে। অনেক কৃষক ধান কেটে জমিতেই গাদা দিয়ে রেখেছেন।

উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক কৃষক আবহাওয়া ভালো দেখে ধান কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। দিনে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ধান কাটতে ভয় পাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে নিচু জমির ধান দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলে ফলন ও মান দুটিই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পেটভরা গ্রামের কৃষক লাবলুর রহমান বলেন, মাঠে আমার তিন বিঘা জমির ধান কাটা রয়েছে। যা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে, ধানে গাছ গজিয়েছে। মাঠের সব ধান কাটার উপযোগী হয়ে গেছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। বেশি পেকে গেলে ধান ঝরে পড়ে, এতে ফলন কমে যায়। প্রতিদিন বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকদের উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিগুণ হাজিরা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক কবির হোসেন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক সঙ্কটও বেড়েছে। অনেক কৃষক কষ্ট করে নুয়ে পড়া ধান কেটে মাড়াই করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। বৃষ্টিতে ভিজে ধানের রঙ নষ্ট হয়েছে, এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ধানের দাম কম বলছেন।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসেন বলেন, উপজেলাজুড়েই এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। তবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। কৃষকদের নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।