কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে শুকুর আলী নামে এক চা দোকানি আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ভেড়ামারা পৌর এলাকার দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির উজ্জ্বল গ্রুপ ও গিয়াস মুন্সি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। কয়েকদিন আগে উজ্জ্বল গ্রুপের একটি দোকান ভাঙচুর, ট্রাকে অগ্নিসংযোগ এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
শনিবার রাতে বিরোধ মীমাংসার জন্য পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে দুই পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাত ৯টার আগেই উজ্জ্বল গ্রুপের লোকজন সেখানে উপস্থিত হন এবং গিয়াস মুন্সির অনুসারীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে ওই কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পাশাপাশি কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে স্থানীয় চা দোকানি শুকুর আলী আহত হন।
ঘটনার সময় ওই কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আলম মালিথা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্বৃত্তরা যে দলেরই হোক, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, “রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারার পাকশী রেলসেতু ও লালনশাহ সেতুর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপির একাধিক গ্রুপ ভাগ-বণ্টনের মাধ্যমে এসব বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের সামনেই এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে এলাকায় কয়েক দফা গুলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


