মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
এই বর্ষায় আবারো শুরু হয়েছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীর ভাঙন। ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলী জমিসহ ঘরবাড়ি, মসজিদ।
উপজেলার রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, হাজিখালী ও কাকড়াবুনিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পিপড়াখালী গ্রামে বাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন তাদের বসতঘরের মালামাল সরিয়ে নেয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না।
তবে স্থানীয়রা মনে করছেন পিপড়াখালী এলাকায় পায়রা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। ভাঙনের ফলে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র।
জানা যায়, উপজেলার পিপড়াখালী গ্রামের খান বাড়ির পাঁকা মসজিদটি ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং তার আশপাশের এলাকার পায়রা নদী তীরবর্তী বসতঘরসহ ফসলী জমি বিলীন হওয়ার পথে।
ভাঙন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে পিপড়াখালী এলাকায়। ভাঙন তীব্রতার কারণে সেই জিও ব্যাগেও কাজ হচ্ছে না। ভাঙনের কবলে বেড়িবাঁধের অনেক জায়গাজুড়ে বড় বড় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। অনেকে তাদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।
ভাঙনের মুখে পড়েছে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকাসহ বাজারটি। পায়রা নদীর ভাঙনের কারণে উপজেলার মেন্দিয়াবাদ ও পিপঁড়াখালী গ্রাম দু’টির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। দু’টি গ্রামের কয়েক হাজার একর ফসলী জমি, বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
পিপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো: জুয়েল হাওলাদার জানান, বর্ষাসহ সব সময়ে পায়রা নদীতে ভাঙন লেগেই আছে। যতবারই পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে, ততবারই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। মূলত বালু উত্তোলনের ফলেই ভাঙছে গ্রামীণ জনপদ। বালু উত্তোলনসহ এই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিপড়াখালীর কর্মকর্তা মো: সুলতান আহেম্মদ জানান, পিপড়াখালী, সুন্দ্রাকলিকাপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। পায়রার ভাঙনের কারণে পিপড়াখালী বাজার এখন আর নেই। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।
পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজিৎ মজুমদার জানান, পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছিল পায়রা নদীর তীরে। ভাঙনের কারণে একাাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন যেন থামছেই না।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব জানান, মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীর প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। মির্জাগঞ্জের ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচ ইউনিয়নই পায়রা নদী তীরবর্তী। পিপড়াখালী এলাকার ভাঙনকবলিত মসজিদটি রক্ষার জন্য আজ সোমবার থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।



