গফরগাঁওয়ে নাতিকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দাদার মৃত্যু

মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে চাচা নবী হোসেনের নাতি রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় যুবকরা। এ খবর শুনে চাচা তার নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই হামলা শিকার হন।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

Location :

Gaffargaon
নাতিকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দাদার মৃত্যু
নাতিকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দাদার মৃত্যু |প্রতীকী ছবি

নাতি রানাকে (২০) মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দাদা নবী হোসেন (৭০) মারধরের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক মাস আগে হাটপাড়া এলাকার দুলালের ছেলে রবিনের মোবাইল চুরি হয়। সেই মোবাইল চুরির অভিযোগে একই এলাকার মো: শারফুলের ছেলে রানাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক। এরপর হাটপাড়া বাদল মার্কেটের সামনের সড়কে রানাকে বেঁধে রেখে যুবকরা মারধর শুরু করেন।

খবর পেয়ে রানার দাদা নবী হোসেন সেখানে গিয়ে নাতিকে বাঁচাতে চাইলে নবী হোসেনকেও কিল- ঘুষিসহ মারধর করেন তারা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা রাতেই নবী হোসেনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌসুমী আক্তার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের ভাতিজা জলিল মিয়া জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে চাচা নবী হোসেনের নাতি রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় যুবকরা। এ খবর শুনে চাচা তার নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই হামলা শিকার হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডা: চাচাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।

পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।