ফরিদ উদ্দিন আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত শহীদের স্মরণে এক ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বসুরহাট আবদুল হালিম করোনেশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে ও কোরআনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামের পক্ষে কাজ করছি। একটি মহল আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারাই ইতিহাসের অস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি ঘরে ঘরে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করায় শত্রুরাও আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলতে পারেনি।’
কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি বলেন, ‘২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ছাত্রজনতা বসুরহাট উপজেলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোষরেরা কোম্পানীগঞ্জে ছাত্র-শিবিরের সাতজন নিরস্ত্র কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। ওই শহীদদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তারা যুগ যুগ ধরে ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসহাক খন্দকার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল সম্পাদক আনিছুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক আলমগীর মো: ইউসুফ এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।
এছাড়া বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, শহীদদের স্মরণ যেন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আদর্শিক সংগ্রামে রূপ নেয়।
সমাবেশ শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



