সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ : এ টি এম মা’ছুম

ইসলাম নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা চলছে, তা বিগত হাসিনা সরকারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বোরকা খুলে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের আরো সংযত হতে হবে, জামায়াতে ইসলামী কারো দাদাগিরিকে পরোয়া করেনা।

Location :

Barishal

বরিশাল ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল অঞ্চলের উদ্যোগে দিনব্যাপী সম্ভাব্য সদস্য (রুকন) প্রার্থীদের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বরিশাল নগরীর ফ্লালাভরিয়া রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের সকল জেলা শাখার বাছাইকৃত কর্মীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক ও চারিত্রিক মানোন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিনব্যাপী শিক্ষামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মাওলানা এ টি এম মা’ছুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. সামিউল হক ফারুকী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এ টি এম মা’ছুম বলেন, বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তারা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন বাতিল করে নিজেদের স্বাক্ষর করা জুলাই সনদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোটা বাংলাদেশকে একটি জুলুমের কারখানায় পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা চলছে, তা বিগত হাসিনা সরকারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বোরকা খুলে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের আরো সংযত হতে হবে, জামায়াতে ইসলামী কারো দাদাগিরিকে পরোয়া করেনা। আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করি দেশীয় জনগণের কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করে যাব।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী তাহজিব-তামাদ্দুনের আলোকে জীবন গড়ার কোনো বিকল্প নেই। দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা যাতে দ্বীন ও ঈমান নিয়ে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেই দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে—সমাজের কলুষতা ও অমানবিক কার্যকলাপ দূর করতে হলে সর্বাগ্রে নিজেদের চরিত্রকে ঈমানি আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তির চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

অগ্রসর কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, ত্যাগ, ধৈর্য ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। নিয়মিত অধ্যয়ন ও সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে সমাজের মানুষের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য ও কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মীর জীবনে কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। ব্যক্তিগত জীবনে তাকওয়া, সততা ও আমানতদারিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তরুণ সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মশক্তিকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির বিস্তার সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ সমাজকে এসব অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ইসলামী আদর্শভিত্তিক নৈতিক সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক কর্মীকে নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে সমাজে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজীর সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জব্বার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঝালকাঠি জেলা আমির হাফিজুর রহমান, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য অধ্যাপক শাহ্ আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ভোলা জেলা আমীর জাকির হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরগুনা জেলা আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ হারুন প্রমুখ।