ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়তে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

‘ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়; সিরাতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে আমাদের জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে ছোটোখাটো ভেদাভেদ ভুলে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন |নয়া দিগন্ত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন বলেছেন, ‘রাসুল (সা.)-এর সিরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়; সিরাতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে আমাদের জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে ছোটোখাটো ভেদাভেদ ভুলে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার রাতে (১৭ আগস্ট) নগরীর ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি ও বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাওলানা সাইয়েদ মোহাম্মদ আবু নোমান।

এতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য, আওলাদে রাসুল (সা.) আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল-মাদানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাহবারে বায়তুশ শরফ হযরত শাহ মাওলানা আবদুল হাই নদভী।

প্রধান ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকার প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। বিশেষ ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকার বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মাওলানা আলী হাসান ওসামা।

ড. আ ফ ম খালেদ হোসেন আরো বলেন, বর্তমানে আমরা পোশাকে আশেকে রাসুলের পরিচয় দিলেও অনেকের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নেই। রাসুল (সা.)-এর সিরাত অনুসরণ করলেই কেবল সত্যিকার মুসলিম হওয়া সম্ভব। ঘরে ঘরে কোরআনের তালীম বাড়াতে হবে এবং উম্মাহর ঐক্য জোরদার করতে হবে। দীনের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উম্মাহর কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এদেশের বয়স ৫৬ বছর হলেও লুটপাটের মাধ্যমে আমরা দেশকে প্রায় শেষ করে দিয়েছি। ২৮ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে—এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু দেশের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের সম্মান অর্জন করতে হলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। মদিনার আদর্শভিত্তিক জীবনব্যবস্থা কায়েম না হলে দেশে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না। দলপ্রীতি থাকতে পারে, তবে দলকানা মনোভাব জাতির জন্য সুখকর নয়। কাজ করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মাহফিলে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মাওলানা আবু বকর রফিক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা গিয়াস উদ্দীন তালুকদার ও ড. মাওলানা আ ক ম আবদুল কাদের, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আহমদ আলী, প্রফেসর ড. মাওলানা শফিউল্লাহ কুতুবী এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী।

মাহফিলে সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী শেখেরখীলের হযরত শাহ মাওলানা মুহাম্মদ ইছহাক পীর সাহেব, ফিরোজশাহ কলোনি বড় মাদরাসার হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম পীর সাহেব, দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মকছুদ আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা এ বি এম সিদ্দিকুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল হক নিজামী, হযরত মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ, গারাঙ্গিয়া পীর সাহেব হযরত শাহ মাওলানা আনোয়ারুল হক মজিদী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হক, প্রফেসর মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ পীর সাহেব (চরকানাই, পটিয়া), হযরত শাহ মাওলানা মুনিরুল মান্নান কুতুবী শাহজাদা (কুতুবদিয়া), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা নেজাম উদ্দিন, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মুহসিন ভূঁইয়া এবং হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ।