সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী বলেছেন, ‘হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা দায়সারা কাজ বরদাস্ত করা হবে না।’
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরে বেহেলী ইউনিয়নের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
খান মো: রেজা-উন-নবী বলেন, ‘প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে; কারণ বাঁধের সাথে হাওরের ফসল ও কৃষকের জীবন-জীবিকা জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘ঘাস লাগানোর আগে প্রোপে পাম্পের মাধ্যমে পানি দিতে হবে এবং ঘাস সতেজ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সেচ অব্যাহত রাখতে হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বাঁধের সব কাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি হাওরের ধান সম্পূর্ণ কর্তন না হওয়া পর্যন্ত বাঁধের সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের মোবাইল ফোন সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৩ দফা নির্দেশনা দেন।
বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প সাইটের খোলা জায়গায় প্রকল্পের বরাদ্দ, মাটির পরিমাণ ও কাজের বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন; সাইট রেজিস্টার বুক, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, ফিলিং চার্ট ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফিতা সার্বক্ষণিক সংরক্ষণ; বাঁধের উপরিভাগের পুরোনো মাটি ছয় ইঞ্চি আলগা করে ঘাস-আগাছা পরিষ্কার করে নতুন মাটি দিয়ে দৃঢ় বন্ধন তৈরি, সর্বোচ্চ এক ফুট উচ্চতায় লেয়ার বাই লেয়ার মাটি ভরাট করে এক্সকেভেটর দিয়ে কম্পেকশন নিশ্চিত করা; বাঁধের স্লোপে সাত কেজি ওজনের দুমুর্জ দিয়ে কম্পেকশন, টো লাইন থেকে ন্যূনতম ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে মাটি সংগ্রহ; ফিলিং চার্ট অনুযায়ী বাঁধের উচ্চতা ও ঢাল নির্ধারণ; ভিজা-কাদা ও বালুমাটি ব্যবহার নিষিদ্ধ, বড় ঢিলা ভেঙে মাটি ছড়িয়ে দেয়া ও কাজ শেষে সঠিক ড্রেসিং সম্পন্ন করা।
পরিদর্শনকালে সুনামগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: মতিউর রহমান খান, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: বন্দে আলী, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঁধ পরিদর্শন শেষে বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভোট কেন অনুষ্ঠিত হবে? কোন কোন বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে? ও গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। গণভোট বিষয়ে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে উঠান বৈঠক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী, উপ-পরিচালক মো: মতিউর রহমান খান, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বক্তব্য রাখেন।
পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার সাচনা বাজার পরিদর্শন করেন।
এদিকে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তিনি জামালগঞ্জ উপজেলা হলরুমে উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি কর্মকর্তার সাথে মতবিনিময় সভা করেন। সভায় বিভিন্ন দফতরের সমস্যা, সঙ্কট ও উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি ও মামলার নথি পর্যালোচনা করেন।
এ সময় জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত শিশু পার্ক ও সদ্য সংস্কার করা জামালগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।



