মাদারীপুরেরর শিবচরে বাড়ির পাশের গাছ থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় সোহেল বেপারী (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সুদের টাকা দিতে না পারায় পাওনাদার ও তার লোকজন সোহেলকে হত্যা করে বাড়ির পাশের গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, ওই এলাকার হাসান মাদবর নামের এক ব্যক্তির কাছে থেকে সুদে কিছু টাকা এনেছিলেন সোহেল বেপারী। পাওনা টাকা দিতে না পারায় কিছুদিন আগেও একবার হাসান মাদবর ও তার লোকজন সোহেল বেপারীকে মারধর করেন। এরপর গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে একটি ফোন কল আসার পর ঘর থেকে বের হয় সোহেল। এরপর রাতে আর ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকজন।
পরে সকালে বাড়ির পাশেই একটি গাছে রশিতে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় সোহেলকে ঝুলে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
পরিবারের দাবি, সোহেলকে সুদের পাওনা টাকার জন্য হাসান মাদবর ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
তবে ঘটনায় তারা দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। শুক্রবার মানববন্ধনে পরিবারের লোকজন ছাড়াও স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘সুদের টাকার জন্য আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো: সালাউদ্দিন কাদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। পরে পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



