ফেনীর পরিকল্পিত উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৩৬ প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজন ফেনী শাখার সভাপতি অধ্যাপক রফিক রহমান ভূঁইয়া।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজন ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোর্শেদ হোসেনের সঞ্চালনায় এ সময় অতিথি ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবু তাহের, ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল ও রিপোর্টার্স ইউনিটি সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম।
এ সময় ফেনীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বহু কাঙ্খিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। এ সময়ে সংসদ সদস্য প্রার্থীগণ জনগণের দোরগোড়ায় ছুটছেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধানে নানাবিধ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঠিক এ সময়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ফেনী জেলার পরিকল্পিত উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
এগুলো হচ্ছে : ফেনীর বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টেকসই ভাবে দ্রুত নির্মাণ করা, ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা, ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার জনবল নিশ্চিত করণ ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেডিকেল কলেজে উন্নীতকরণ, সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবলসহ ১০০ শয্যায় উন্নিতকরণ। সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দির ২০ শয্যার হাসপাতালটি পর্যাপ্ত জনবলসহ চালু, ফেনী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার পর্যাপ্ত জনবলের ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী এই জেলার নিরাপত্তা বিবেচনায় ফেনীতে ক্যান্টনম্যান্ট স্থাপন করা, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচ প্রকল্পের খালসমূহ পুনরুদ্ধার এবং খনন করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা, জেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, বিলোনীয়া স্থল বন্দর সম্প্রসারণ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, ফেনীর শহীদ জহির রায়হান হল পুনঃনির্মাণ, ফেনী-বিলোনিয়া রেল সড়ক পুনরায় চালুকরণ, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা, সরকার নির্ধারিত মহালের বাহিরে যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধ করা, জেলার সকল সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ম্যাটস স্থাপন করা, জেলার সকল নদীসমূহ খনন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা, সোনাগাজীতে কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন, সোনাগাজীর উপকূলে আউটার বেড়িবাধ নির্মাণ, সোনাগাজীতে কৃষি ও মৎস্য হিমাগার স্থাপন, ফেনী-সোনাগাজী সড়ক (অর্থনৈতিক অঞ্চল পর্যন্ত) ও ফেনী-সোনাইমুড়ি সড়ক চার লেনে উন্নিতকরণ, বালুয়া চৌমুহনী গ্যাস ফিল্ড পুনরায় চালুকরণ, নতুন আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থা চালু, লালপুল ও বিসিক শিল্পনগরীর সংলগ্ন মহাসড়কে ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ, দাগনভূইয়া উপজেলাকে মুহুরী সেচ প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত করা, ফেনী ও আশপাশের এলাকার বহুমুখী ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য মুছাপুর রেগুলেটর দ্রুত পুনঃনির্মাণ করা, দাগনভূইয়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা, ভাষা শহীদ সালাম স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থাগার সংলগ্ন স্থানে শিশু পার্ক স্থাপন, সকল পৌরসভায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, ফেনী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস চালুকরণ ও জেলায় নতুন করে শিল্পায়নে উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধকরণ, শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলা চর্চা ও বিনোদনের জন্য সকল উপজেলায় স্টেডিয়াম, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণ করা, ফেনী পৌরসভার রামতারা শিশু পার্ক সংস্কার, রাজাঝির দীঘির পাড়ে জেলা পরিষদের শিশু পার্কটি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, সোনাগাজীর বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এর কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্নকরণ, নৌ-বন্দর স্থাপন করা, ফেনী পৌরসভায় খাল, নালাসমূহ পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত নগরায়ন, ফুলগাজীকে পৌরসভায় উন্নিতকরণ, ফুলগাজীর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আরো আধুনিকায়ন, সকল উপজেলায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমি ও গণগ্রন্থাগার স্থাপন, ফেনী থেকে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রেল ভ্রমণের সুবিধা বাড়ানো ও কক্সবাজারগামী ট্রেনে আসন বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।



