দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চাহিদা মতো কয়লা নিতে না পারায় বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনি হুমকির মুখে পড়েছে। একদিকে কয়লার স্তূপ অপরদিকে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা কয়লার মূল্য না পাওয়ায় কয়লা খনি শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন খনি কর্তৃপক্ষ। খনির কোল ইয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ হাজার মেট্রিক টন কয়লা জমে আছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা এসব কয়লা রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫.৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ১১৩.৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কয়লা উত্তোলনের জন্য আরো ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এতে স্থাপনাসহ অধিগ্রহণ বাবদ ১২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু এ টাকা খনি কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ তাদের উৎপাদিত কয়লা শুধুমাত্র পিডিবির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছেই বিক্রি করতে পারে। খোলাবাজারে বা ইটভাটা, স্টিল মিলসহ স্থানীয় ক্রেতাদের নিকট বিক্রয় নিষিদ্ধ। ফলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদিত পুরো কয়লার ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে না পারলে, কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লা ভূমির উপরে পাহাড়সম স্তুপে আছে।
উল্লেখ্য, কয়লা খনির উত্তোলিত সমুদয় কয়লা ব্যবহারের সক্ষমতা পিডিবির নেই। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট মিলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে পিডিবির পক্ষে তিনটি ইউনিট কখনোই একসাথে চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বছরের বেশিরভাগ সময় কখনো একটি-দুইটি বা তিনটি ইউনিটই একসাথে বন্ধ থাকে। তৎপ্রেক্ষিতে পিডিবির সম্পূর্ণ সক্ষমতা ইউটিলাইজেশনের অভাবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে প্রায় চার লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা অব্যবহৃত অবস্থায় মজুত রয়েছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রটির দৈনিক প্রায় ৫,২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দৈনিক ২৫০০-৩০০০ মেট্রিক টন কয়লার বেশি পিডিবি সরবরাহ নিতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের ইক্যুইপমেন্ট নিম্নমানের আমদানি করার ফলে বছরের অধিকাংশ সময় ইউনিট তিনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক পিডিবি ব্যবহার করতে পারে। বাকি অর্ধেক কোল ইয়ার্ডে মজুত থাকায় দিন দিন মজুতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।



