চূড়ান্ত বিল তুলে নিলেও ৫ বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি

আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন সময়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল তুলে নেন। ফলে পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে আসেনি। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সাধারন মানুষকে ভয়াবহ ভোগান্তিসহ দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী (বরিশাল)

Location :

Gaurnadi
চূড়ান্ত বিল তুলে নিলেও ৫ বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি
চূড়ান্ত বিল তুলে নিলেও ৫ বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি |নয়া দিগন্ত

চূড়ান্ত বিল তোলার পরও ৫ বছর ধরে অসমাপ্ত সেতু নির্মাণে জনদুর্ভোগ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনে খালের উপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিল তোলার পরও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে চাদশী, উত্তর চাদশী, দক্ষিণ চাদশী ও আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন, ভূক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের অধীনে ২০২০-২০২১ইং অর্থ বছরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনে খালের উপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য একটি আরসিসি সেতুসহ নির্মাণে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। ২০২১ সালের জুলাই মাসে দরপত্র আহবান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেমার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের শুরুতেই অনিয়ম ও গাফলতির শুরু করেন। তিন মাসের কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি। সেতু নির্মাণের আগে এলাকাবাসী ও পথচারীর যাতায়াতের জন্য একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা না করে পুরানো সেতুটি ভেঙে ফেলেন। এতে সেতু নির্মাণকালীন সময় থেকে গত পাঁচ বছর যাবত পথচারীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

পরে ২০২৪ সালে ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই চুড়ান্ত বিল তুলে নেন। সেতু নির্মান কাজ শেষ না করায় গৌরনদী উপজেলার চাদশী, উত্তর চাদশী দক্ষিণ চাদশী ও আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের সাধারন মানুষকে ভয়াবহ দূর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাজ শুরু থেকে এ পর্যন্ত দূর্ঘটনাকবলিত হয়ে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট খালের উপর বিশাল একটি সেতু নির্মাণ কাজ হয়েছে। সেতুর পূর্ব অংশ রাস্তায় থাকলে পশ্চিম অংশ একটি পুকুরের সাইডে রয়েছে যেখানে কোনো সড়ক নাই। সেতুর এপ্রোচ সড়ক করতে হলে পুকুর ভরাটের বিকল্প নাই। সেতুটি নির্মাণই অপরিকল্পিত। সেতুটি ঢালাই দেয়া হলেও করা হয়নি রেলিং ও এপ্রোচ সড়কসহ অন্যান্য কাজ। পাঁচ বছর ধরে ফেলে রাখায় সেতুটি লতাপাতা জঙ্গলে ছেয়ে গেছে।

এ সময় নাঠৈ গ্রামের মো: হোসেন মোল্লা (৬৫) জানান, গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনে খালের উপর ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পটিই ছিল অপরিকল্পিত। সেখানে ছোট খালে মধ্যে ছয় থেকে সাত মিটার একটি কালভার্ট যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করা হয়।

এতে জনসাধারন কোনো সুফল পাচ্ছেন না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর প্লাটফর্ম নির্মাণ করেই চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়ে কাজ শেষ না করে চলে যান।

একই গ্রামের লাভলু সরদার (৬৮) অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন সময়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল তুলে নেন। ফলে পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে আসেনি। সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সাধারন মানুষকে ভয়াবহ ভোগান্তিসহ দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন্টাপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো: মেহেদী হাসান বাদলের কাছে জানতে চাইলে চূড়ান্ত বিল নেয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখনো বিল পাওয়না আছে। কত পাওনা আছে তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

কাজ শেষ না করা প্রসঙ্গে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মো: অহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেয়ার পরেও ঠিকাদারকে কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

চুড়ান্ত বিল নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদার চলতি বিল নিয়েছে, চূড়ান্ত বিল এখনো দেয়া হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে দ্বিমত পোষণ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশল অধিদফতরের একটি সূত্র জানান, ২০২৪ সালে প্রথম দিকে ঠিকাদার চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছেন।