কক্সবাজারে অতিরিক্ত মূল্যেও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাসের সিলিন্ডার

দীর্ঘ সময় ধরে এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ না করায় বাজারে এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

রফিক আহমদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Cox's Bazar
গ্যাস সিলিন্ডার
গ্যাস সিলিন্ডার |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও অনেক স্থানে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ক্রেতারা। এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় গ্যাসের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে খুচরা বিক্রেতারা সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রি করছেন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে চকরিয়া পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গ্যাসের সিলিন্ডারের দোকানে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। অনেক স্টেশনের দোকানে শুধু খালি সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সরকারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩০৬ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এলাকার ক্রেতারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

চকরিয়া পৌর শহরের বাটাখালি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়ুব জানান, পাশের স্টেশন থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকায় ১২ কেজির একটি এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। কয়দিন ধরে বাসায় রান্না বন্ধ থাকায় নিরুপায় হয়ে বেশি দামে হলেও কিনতে হয়েছে।

দোকানদারের কাছে দাম বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা জানান, গ্যাসের সিলিন্ডার নেই, নিতে চাইলে এ দামেই নিতে হবে।

চকরিয়া পৌর এলাকার আধুনিক হোটেল রেস্তোরাঁ ধানসিঁড়ির মালিক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে করে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি মূল্যে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার ক্রয় করতে হচ্ছে। তাও সঠিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি গ্যাস সঙ্কটের কারণে প্রতিদিন ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন পৌর এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সঙ্কট ও অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে বাজার তদারকি জোরদার করেছে এবং অতিরিক্ত দাম আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এ সঙ্কট সৃষ্টিকারীদেরকে চিহ্নিত করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

স্থানীয় ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তা দিয়ে এলাকার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ না করায় বাজারে এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

আসন্ন রমজান কে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে সঙ্কট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা অর্জনে এ পায়তারা করা হচ্ছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।