বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ শরণখোলার সীমান্ত ধানসাগর গ্রামে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দু’টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন।
বুধবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।
রাত ২টা ১৫ মিনিটে শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই দোকান দু’টি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ছালেহীন মল্লিক, রুমি ও শহীদ হাওলাদারসহ স্থানীয় গ্রামবাসী ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোরেলগঞ্জ সীমান্তের ধানসাগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের ছেলে মল্লীক স্টোরের মালিক ছালেহীন মল্লীক রুমির মুদি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, স্টেশনারি মালামালসহ দোকান ঘরটি দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ সময় পশেই থাকা এস এম টেলিকমপিসি বারইখালী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ইলেকট্রনিকস দোকানও পুড়ে যায়।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই দোকন ঘর দু’টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ব্যবসায়ী ছালেহীন মল্লীক জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রাত সাড়ে দশটার দিকে দোকান বন্ধ করে দোকান সংলগ্ন নিজ বাড়িতে চলে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলে দরজা খুলে দেখতে পান আগুনে তার দোকান ঘরটি জ্বলছে। এ সময় তিনি ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে পানি দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী শত্রুতায় তার দোকানে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে তার দোকানের টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, গ্যাস সিলিন্ডারসহ সব মালামাল পুড়ে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। পাশেই তার ভাড়াটিয়া শহীদ হাওলাদারের ইলেকট্রিক্সের দোকানের মালামাল পুড়ে তারও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের ধানসাগর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় কয়েকদিন আগে আমার ছেলে ও আমাকে মারধর করেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে প্রতিপক্ষ এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওছালেহীন মল্লীকের ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তামিম মল্লিক বলেন, আমার পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ দিন ছিল আজ, অথচ ফরম পূরণ করতে যেতে পারিনি। তার আগের রাতের দুর্ঘটনায় আমাদের নিঃস্ব করে দিছে শত্রুরা। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
ধানসাগর ও পিসি বারইখালী গ্রামের বৃদ্ধ সামছুল হক হাওলাদার, আব্দুল করিম হাওলাদার, সুলতান খান, মো: শাহা আলম, মো: কামরুজ্জামান তালুকদার, শাহআলম তালুকদারসহ স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন এটা কেমন শত্রুতা? ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়ে একটা পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। প্রশাসনের নিকট আমরা এ ঘটনার তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার চাই।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আফতাব-ই আলম বলেন, ধানসাগর গ্রামের দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে ওই রাতেই ঘটনাস্থলে আমি ১০ জন ফায়ারসার্ভিস সদস্যকে একটি টিম সোয়া ২টার দিকে পৌঁছায়। অনেক দূরের পথ বিধায় ঘটনাস্থলে যাবার আগেই দোকন ঘর দু’টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হতে পারে বলে ধারণা করছি।



