গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসছে বন্য হাতি। এরা কখনো দলবেঁধে আবার কখনো দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট হয়ে ডুলহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একটি বন্য হাতি। তবে ধানের কোনো ধরনের ক্ষতি করার আগেই হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া, সুরাজপুর, মানিকপুর, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় থেকে বন্য হাতি নেমে আসে। হাতিগুলো পাকা ধান পায়ে পিষ্ট করে ও খেয়ে নষ্ট করে। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
আবার কৃষকরাও বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ফসলি জমির চারদিকে কাঁটাতারে ঘেরা, বিদ্যুতায়িত করে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে অনেক বন্য হাতিরও মৃত্যু হয়। আবার সেই বিদ্যুতায়িত তারে আটকা পড়ে অনেক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় এক শ্রেণির অবৈধ ব্যবসায়ী বনের গাছপালা কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা বনবিভাগের কর্মীদের সহায়তায় অবাধে বন ধ্বংস করছেন। ফলে বন্য হাতির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। আর এ কারণেই বন্য হাতি বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।
ডুলাহাজারার স্থানীয় সংবাদকর্মী মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ডুলাহাজারার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট একটি বন্য হাতি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন কৌশলে হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয়। এ সময় হাতিটি এলাকায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি করেনি।



