লক্ষ্মীছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে চিকিৎসা উপকরণ ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের হলরুমে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদ ও চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করেন সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাঁন সজিবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর রাজু হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রিফাতুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ফোরকান হাওলাদার ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: সাইদুল ইসলাম সোহেলসহ স্থানীয় নাগরিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২০ জন নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে নানা জীবন রক্ষাকারী কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণে শরীরের তীব্র রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, জখমের প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি পরিচর্যা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ঘটনায় করণীয়, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশল শেখানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাঁন সজিবুল ইসলাম বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার দুর্গম ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলো থেকে জরুরি মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো বেশ কঠিন। এ বাস্তবতা বিবেচনা করেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যেকোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রাণহানি কমাতে পারেন।’
লক্ষ্মীছড়ি জোনের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো: সাব্বির হোসেন জানান, প্রশিক্ষণে গর্ভবতী নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে, যার ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।



