কমলগঞ্জে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় ৪ দফা দাবিতে প্রশাসনকে স্মারকলিপি

চা-বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ১৯৯৪ সালের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটির সেবা বন্ধ থাকায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

Location :

Maulvibazar
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল |সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা-বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা টানা ১৯ দিন বন্ধ থাকায় চা-শ্রমিকদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি চালুসহ চার দফা দাবিতে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইউএনও মো: আসাদুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

এ সময় দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছেও স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের অন্যতম চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডানকান ব্রাদার্সের অধীনে পরিচালিত ১৫টি চা-বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ১৯৯৪ সালের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটির সেবা বন্ধ থাকায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

চা-শ্রমিকরা জানায়, তারা দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা মজুরিতে কাজ করেও শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এর মধ্যে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়েছে।

গত ২৭ মার্চ এক কিশোরী চা-শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে টানা ১৯ দিন হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে।

এতে চিকিৎসার অভাবে অন্তত পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

চা-শ্রমিক সংঘের উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে হাসপাতাল চালু করা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংগঠনের নেতারা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে চা-শ্রমিকদের মানবিক সংকট আরো গভীর আকার ধারণ করবে। তাই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।