মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যৌথ অভিযানে দালাল চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও জেলা প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
র্যাব-৪ ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদ আলী শাহরিয়ার ও র্যাব-৪, সিপিসি-৩- এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এস কে এম সাদমান।
গ্রেফতারদের মধ্যে আটজন নারী এবং চারজন পুরুষ।
জানা গেছে, দালাল চক্রটি মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে আসা রোগীদের মূল ফটকের সামনে থেকেই টার্গেট করত। পরে তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভালো চিকিৎসকের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিয়ে যেত।
দীর্ঘদিন এ চক্রটি হাসপাতালে আসা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে মাত্র ১০০-২০০ টাকার বিনিময়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাত। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছিল সাধারণ মানুষ।
মমিন মোল্লা নামের দালাল চক্রের এক সদস্য বলেন, ‘আমি হাসপাতালের নিচে এসে দাঁড়াইছি, অমনেই আমাকে ধরছে। আমি গ্রিন লাইফ হাসপাতালে দেড় বছর যাবত কাজ করছি। টেস্টের জন্য রোগী এনে দিলে আমরা ৫০-১০০ টাকা পাই।’
দালালচক্রের এক নারী সদস্য বলেন, ‘আমি ছয় হাজার টাকা বেতন পাই। হাসপাতালে ডাক্তার রোগীদের যে পরীক্ষা দেয় ওইগুলো আমি কাউন্টারে জমা দেই, ল্যাবে নিয়ে দেই, রিপোর্টগুলো নিয়ে আসি। এটাই কাজ আমার।’
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদ আলী শাহরিয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে। সেটা নিয়ে আমাদের র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধির সাথে যৌথ অভিযানে কিছু দালাল চক্রের সদস্যদের আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি এবং তাদেরকে মামলার আওতায় এনেছি।’
তিনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে আটজন নারী ও চারজন পুরুষ। তারা প্রত্যেকেই অভিযোগ স্বীকার করেছে। তাদেরকে আমরা সাজা দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছি। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী সাজা দেয়া হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



