ফেসবুকে সখ্যতার পর ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায়, সিদ্ধিরগঞ্জে ২ নারীসহ গ্রেফতার ৪

তার সাথে মোসা: সুমাইয়া খাতুনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা প্রায় সময়ই মোবাইল ফোনে কথপোকথন করতেন।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj

নারায়ণগঞ্জে ফেসবুকে সখ্যতা গড়ে ডেকে এনে দুই যুবকের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি প্রতারক চক্র। ওই দুই যুবক ৮২ হাজার ২৭০ টাকা আদায় করলেও বাকি টাকার জন্য তাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে চক্রটি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানায় তারা। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজন নারীসহ ওই চক্রের চার সদস্যকে আটক করার পাশাপাশি ওই দুই যুবককেও উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোররাত ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৩নং ওয়ার্ড রসুলবাগ এলাকায় এই অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযানে মুক্তিপণ বাবদ আদায় করা টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করে পুলিশ। আর এ সময় যাদেরকে আটক করা হয়, তারা হলেন- মোসা: সুমাইয়া খাতুন (২০), মো: শাকিল (২৫), মো: ফাহিম হোসেন (২৭) ও হোসনেয়ারা (৩০)।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী এক যুবকের নাম মো: ওয়াসিম। তার সাথে মোসা: সুমাইয়া খাতুনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা প্রায় সময়ই মোবাইল ফোনে কথপোকথন করতেন। তারই একপর্যায়ে ১ জুলাই সকালে সুমাইয়া খাতুন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ওয়াসিমের মোবাইলে ফোন করে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে সুমাইয়া তার সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার রসুলবাগ এলাকার ঈগল বাড়ির সামনের রাস্তায় দেখা করার জন্য বলেন।

এরপর দুপুর ১টার দিকে ওয়াসিম তার বন্ধু আল-আমিনকে নিয়ে সুমাইয়ার সাথে দেখা করেন। এ সময় তাদের কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শাকিল, ফাহিম হোসেন, হোসনেয়ারা ও ৫-৬ জন এসে ওয়াসিম ও আল-আমিনকে জোরপূর্বক সুমাইয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটক আটকে রাখেন।

তারপর তারা মুক্তিপণ বাবদ ১ লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের এলোপাথারি মারপিট করতে থাকেন, তাদের ভয়ে ওয়াসিমের কাছে থাকা নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং আল-আমিনের সাথে থাকা ব্যবসায়িক কাজের নগদ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা ও আল-আমিনের ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্ট থেকে অপহরণকারীরা ২ হাজার ৫০০ টাকা মুক্তিপণ বাবদ নিয়ে নেয়।

বাকি টাকার জন্য ওয়াসিম ও আল-আমিনকে মারপিট করতে থাকলে, তাদের বন্ধু সোহেল (৩২) ও ইয়াকুবদের (২৫) বাকি টাকা পাঠানোর জন্য বললে, সেই মোতাবেক সোহেল (৩২) অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট নম্বরে ৯ হাজার ৮২০ টাকা এবং অপর বন্ধু ইয়াকুব (২৫) বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট নম্বরে ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা মুক্তিপণ বাবদ প্রদান করেন।

পরে বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করলে, থানা থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: বজলুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে ওয়াসিম ও আল-আমিনকে উদ্ধার করেন। এ সময় এ চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করলেও কৌশলে কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ আটকদের হেফাজত থেকে মুক্তিপণ বাবদ আদায় করা টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মোবাইলে প্রেমের নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিভাবে ডেকে এনে আটকে রেখে অর্থ হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি। এ চক্রের গতিবিধি আমাদের নজরে ছিল। ২ অপহৃতকে উদ্ধারসহ চারজন অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকাসহ আটক করতে সক্ষম হই। এ চক্রের হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হওযার অনুরোধ করছি। আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।