মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে

চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রিতে, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষ; পরিস্থিতি মোকাবিলায় কম্বল বিতরণ চলছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Chuadanga
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা |ফাইল ছবি

পৌষের মাঝে এসে চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ। একইসাথে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বেড়ে গেছে শীতের প্রকোপ। ফলে শীতে কাবু চুয়াডাঙ্গার জনজীবন।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সাথে বয়ে যাচ্ছে জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এতে কাবু হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। হিমেল বাতাসে ক্রমেই শীত বাড়ায় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত প্রবাহ। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

সারাদেশের মতো কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে চুয়াডাঙ্গা। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মিলছে না সূর্যের দেখা। শীত জেঁকে বসেছে চারিদিকে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বাইরে লোকজনের উপস্থিতিও অনেকটাই কমে গেছে। তবে শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়দের। স্বাভাবিক কাজ কর্মে যেতে পারছে না তারা। ছিন্নমূল মানুষেরা খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। এ দিকে শীত থেকে বাঁচতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়।

হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। শীতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বৃদ্ধ, শিশু, নারী ও রোগীরা। শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এছাড়া কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে যানবাহন হেডলাইন জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

শৈত্য প্রবাহের কবল থেকে রক্ষায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জেলা প্রসাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলার ৪ উপজেলায় নগদ ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আট হাজার কম্বল কেনা হয়েছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে দুই দফায় ছয় হাজার ২৫০ পিছ কম্বল এবং বেসরকারি ব্যবস্থপনায় ৫০০ কম্বল আমরা পেয়েছি যা শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

সূত্র : বাসস

Topics