চুয়াডাঙ্গায় প্রশ্ন ফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির ঘটনা বন্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
চুয়াডাঙ্গায় প্রশ্ন ফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন
চুয়াডাঙ্গায় প্রশ্ন ফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির ঘটনা বন্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাব চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব’।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন বলেন, ‘একটি জাতিকে দুর্বল করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা। শিক্ষক নিয়োগে অনৈতিকতা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া।’

তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গায় সাম্প্রতিক নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা গোটা জেলার জন্য লজ্জাজনক।

চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস বলেন, ‘আজ নিয়োগ পরীক্ষা মানেই মেধাবীদের আতঙ্ক। প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির কারণে যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ছাত্রসমাজ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।’

জুলাই যোদ্ধা তামান্না খাতুন বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেও যদি নিয়োগ দুর্নীতি থেকে মুক্ত হতে না পারি, তাহলে তা হবে আমাদের ব্যর্থতা। প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

মানববন্ধন থেকে জানানো পাঁচ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

নিয়োগ জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার, প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতাদের শনাক্ত করে প্রকাশ, নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা চালু এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় পরীক্ষার্থী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।