পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনে কাঁটা হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। ভবন ঘেষে সামনের অংশের মাটি কাটায় ঝুঁকিতে রয়েছে নাজুক বিদ্যালয়ের ভবনটি।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: শফিকুল ইসলাম সবুজ।
জানা গেছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে বসানো পাইপ দিয়ে পানি নামানো হতো। কিন্তু ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সবুজ পাইপ আটকে মাছের ঘের করেছেন। পাইপ আটকে ঘের করার কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে বিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী একটি ঘেরের পানি নিষ্কাশনে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মাঠ কাটা হয়েছে। ইউপি সদস্যকে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কাটতে বারবার নিষেধ করেন স্থানীয়রা।
মাটি কাটার সময় স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও ইউপি সদস্য হুমকি ধামকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয় মাঠ কেটে পানি নামানো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওই ঘেরের জমিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অংশ রয়েছে। তিনি সেখান থেকে লভ্যাংশ পান।
স্থানীয় ফারুক শরীফ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েই ইউপি সদস্য মাঠ কেটেছে। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ না কেটে অন্য জায়গা দিয়েও পানি নামানো যেত।
তিনি আরো জানান, ১০-১৫ দিন আগে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নামানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট একটি লিখিত আবেদনও দেয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তিশা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে ফেলায় আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। এছাড়া স্কুল বিল্ডিংয়ের কোল ঘেষে এমন ভাবে কাটা হয়েছে, তাতে আমাদের চলাচলেও দারুন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সবুজ সাথে যোগাযোগ করার জন্য মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো মাহাবুব জানান, ভবনটি ঝুকিপূর্ণ থাকায় ওই ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে না। তবে আমি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করার চেষ্টা করছি। এঘটনায় তিনি জড়িত কিনা প্রশ্ন করা হলে ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন।
গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম ছগির জানান, এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো: ইজাজুল হক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ কাটার ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।



