গাইবান্ধায় আইন প্রয়োগে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের

ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
অবৈধ ইটভাটা
অবৈধ ইটভাটা |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটায় আইন প্রয়োগ নিয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল খেটে খাওয়া ও দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, অথচ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রিত বড় বড় অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চললেও সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।

‎গত এক মাসে উপজেলার একাধিক অভিযানে কাঁকড়া গাড়ির চালকদের জেল ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত নানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

‎সরজমিনে দেখা গেছে, কাঁকড়াচালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা কারখানা প্রকাশ্যেই চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

‎উপজেলার সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, আইন যেন কেবল খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা, অবৈধ কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা সবার চোখের সামনে চললেও সেখানে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।

‎কাঁকড়াচালক গোলজার বলেন, ‘পেটের দায়ে গাড়ি চালাই বলেই আমাদের জেল-জরিমানা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালায়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইন কি শুধু আমাদের জন্য?’

‎কাঁঠালতলীর বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।’

‎স্থানীয় মোকছেদ আলী বলেন, ‘সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কি রাঘববোয়ালদের জন্য আলাদা কোনো আইন আছে? নিরীহদের ধরেই কি আইনের শাসন দেখানো হচ্ছে?’

‎এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটা ও কয়লা কারখানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদফতরের এখতিয়ারভুক্ত। এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে পরিবেশ অধিদফতরকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিধি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করে যাচ্ছি।’

‎তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এসব বক্তব্যের সাথে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। পুরো উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।